জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ৩০ সদস্য। আবার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে নাহিদকে চিঠি দিয়েছেন ১৭০ জন নেতা।
শীর্ষ নারী নেত্রীরাও বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না। এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবিন ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। আর জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পরিণতি নিয়ে ফেসবুক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। তবে তিনি পদত্যাগ করবেন না বলে জানান।
নিয়ে বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই পদত্যাগ করেছেন। দলটির নীতি ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই স্পিরিট থেকে গড়ে ওঠা এ দল এতদিন নিজেদের উদারপন্থি ও প্রগতিশীল হিসেবে প্রচার করেছে। যেখানে দাবি করা হতো— ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি উন্মুক্ত রাজনৈতিক চর্চার পরিবেশ গড়তে চান তারা। এমন দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা অসংখ্য তরুণ-তরুণী তাদের সঙ্গে যুক্ত হন।
জামায়াতের মতো একটি ধর্মভিত্তিক দলের জোটে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে মেনে নিতে না পেরে অনেক নারী নেত্রীর দল থেকে সিটকে পড়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। অনেকে মনে করছিলেন এনসিপিতে তরুণ নারী নেত্রীদের সরব উপস্থিতি অনেক বড় দলের চেয়েও ঈর্ষণীয় দৃষ্টান্ত ছিল। আর এভাবে নেত্রীদের দল ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণায় নয়া বন্দোবস্ত কতটুকু বাস্তবায়ন হলো— তা নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এতদিন এনসিপি যে স্বতন্ত্র ধারার কথা বলে আসছিল— তা নিয়ে অনেকে দলটির দ্বিচারিতার কথা বলছেন। এতে কয়েকটি আসনের জন্য দলটির সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নষ্ট হওয়ার পথে। বিশেষ করে তাদেরকে জামায়াতের আদর্শিক সহযোগী হিসেবে যে অভিযোগ ছিল, তা আরও উচ্চকিত হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এনসিপি এতদিন নিজেদের মধ্যমপন্থি দল হিসেবে দাবি করলেও জামায়াতের সঙ্গে যোগ দিয়ে নিজেদের চরিত্র প্রকাশ করলো। আসলে তারা তাদের আদর্শেই ফিরে গেছে। এতদিন যা বলেছে, তা ছিল একান্তই ধোঁকাবাজি। অথচ মানুষ তাদের কাছে এমনটি আশা করেনি। দলটি চেয়েছিল রাজনীতিতে নতুন ধারা চালু করবে। কিন্তু তারা মানুষকে আশাহত করলো।’
নারী নেত্রীদের পদত্যাগ ত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা তো অনেক আশা নিয়ে দলটিতে যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু তারা যখন তাদের আদর্শিক বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে, তখন সরে যাচ্ছে। আমার ধারণা এ সংখ্যা আরও বাড়বে। যদিও এনসিপির নেতাদের দাবি দলীয় স্বার্থেই নির্বাচনি কৌশল হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত এবং এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ কেন্দ্রীয় নেতাদের মত রয়েছে।’