বিধি ভেঙে সাড়ে সাত লাখ টাকা উত্তোলন কনকাপৈত ইউপি কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসনের কারণ দর্শানো

করিম রেজা

সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের টাকা উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী জাফর আহাম্মদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযোগ অনুযায়ী, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার-এর বাধ্যতামূলক প্রত্যয়ন ছাড়াই পাঁচটি প্রকল্পের মোট ৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চূড়ান্ত বিল বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করা হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কুমিল্লার স্থানীয় সরকার শাখা সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ অপারেশনাল ম্যানুয়েল–২০১৮ এবং ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা ব্যবহার নির্দেশিকা–২০২১ অমান্য করে উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের অর্থ উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি অনুমোদন ছাড়াই স্ব-উদ্যোগে প্রকল্প প্রণয়ন ও বিল প্রক্রিয়াকরণ করা হয়, যা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর একাধিক ধারার সরাসরি লঙ্ঘন।
নথিপত্রে দেখা গেছে, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার, কুমিল্লার কার্যালয় থেকে ৩০ জুন ২০২১ তারিখে জারিকৃত স্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যয়ন ছাড়া কোনো অর্থ উত্তোলন করা নিষিদ্ধ ছিল। তবুও ওই নির্দেশনা অমান্য করে অর্থ উত্তোলন করা হয়, যা সরকারি বিধিবিধান ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার প্রতি চরম অবহেলার শামিল।
এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে, কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তা আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, চৌদ্দগ্রামের মাধ্যমে লিখিতভাবে জানাতে হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও নোটিশে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদে উন্নয়ন সহায়তা তহবিল ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার সংকট রয়েছে। এই ঘটনা তারই আরেকটি প্রমাণ। তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সরকারি অর্থের অপব্যবহার বন্ধ হবে না বলে তারা মন্তব্য করেন।

Facebook
X
LinkedIn
WhatsApp
Telegram

আরও পড়ুন