আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েই জামায়াতের জোটে নাহিদরা

মহসিন কবির

জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি এতদিন বলে আসছিল তারা বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাবে না। তারা বিকল্প শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক ময়দানে প্রভাব বিস্তার করবে। সে আলোকে চলতি বছরের ৭ ডিসেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মিলে তিন দলীয় গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট গঠন করে। তখন তারা ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা নিজেরাই নির্বাচন করবেন। সংসদে এমপি হওয়া তাদের লক্ষ্য নয়। তারা জাতি ক্রান্তিকালে রাজপথে ভূমিকা রাখতে চান।
তবে এরই মধ্যে কিছু আসনে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ভোটের সমীকরণ নিয়ে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়। তখন আলোচনা শুরু হয় এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতায় যাচ্ছে। কয়েকটি গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশ হয়। এতদিন এনসিপি নেতারা এ নিয়ে পরিষ্কার কিছু বলেননি। তবে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এ নিয়ে এনসিপির কতিপয় নেতা বিষয়টি স্বীকার করেন।
সর্বশেষ, রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ৮ দলের সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে এনসিপি জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সময় স্বল্পতার কারণে এনসিপির কেউ আসতে না পারলেও নাহিদ জানিয়েছেন তারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন। রাতেই হয়তো দল থেকে তারা আনুষ্ঠানিক জানাবেন।’
সে অনুযায়ী রাত ৮টায় বাংলা মোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান জানান নাহিদ। তিনি ঘোষণা দেন তারা জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় যাচ্ছেন।
যে ব্যাখ্যা দিলেন নাহিদ
জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে এককভাবেই অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ফলে দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। আমরা মনে করি, আধিপত্যবাদী শক্তি এখনও দেশে আছে। তারা চায় নির্বাচন বানচাল করে জুলাই যোদ্ধাদের শেষ করে ফেলতে। তাই এমন পরিস্থিতিতে এনসিপি বৃহত্তর ঐক্যের জন্য জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতায় এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘আধিপত্যবাদী শক্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবং বৃহত্তর ঐক্যের জন্য ১০ দলীয় জোটে অংশ নিচ্ছে এনসিপি।’
এনসপির এই নেতা বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে দৃঢ় অবস্থানে ছিল এনসিপি। এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আমরা চাই গণভোটের পক্ষে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি করতে। আমরা বিএনপিকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আমরা চাই দেশ গঠনের জন্য জুলাই সনদ অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে।’
এসময় জোটে থাকলেও এনসিপি ও জামায়াত আলাদাভাবে নিজ আদর্শ অনুযায়ী কাজ করবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক ঐক্য নয়, শুধুমাত্র নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছে।’
দ্বিধা বিভক্ত নেতারা
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ২৩ ডিসেম্বর তাদের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক হয়। এতে দুদলের প্রাথমিক আলোচনায় জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তী সময়ে এনসিপি নিজেদের সঙ্গে বৈঠক করে। এতে ২১৪ জন কেন্দ্রীয় সদস্যের মধ্যে ১৮৪ জন জামায়াতের সঙ্গে জোটে একমত হয়। আর বাকি ৩০ জন আপত্তি জানান। তারা নাহিদ ইসলামকে এ বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে চিঠি দেন। যেহেতু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখানে কেউ কেউ দ্বিমত করতেই পারে। তাদের মতামতকে অবশ্যই এনসিপি সম্মান করে। তারপরও সামগ্রিক বাস্তবতায় দল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
অবশ্য রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) জামায়াতের সঙ্গে জোটে সমর্থন জানিয়ে নাহিদকে চিঠি দেন ১৭০ নেতা।

Facebook
X
LinkedIn
WhatsApp
Telegram

আরও পড়ুন